মাঝপথে কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা, অনিশ্চয়তায় তালার শালিখা ব্রিজ নির্মাণ

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা

সাতক্ষীরা ও খুলনার মধ্যে সড়ক যোগাযোগে কপোতাক্ষ নদের উপর তালার খেরশা শালিখা ব্রিজ নির্মাণের মাঝপথে হারিয়ে গেছে ঠিকাদার ও কোম্পানির লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের লোকজন উধাও হয়ে গেছে।

জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা অবিলম্বে কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, নদের এক পাশে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা ইউনিয়ন ও অপর পাশে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লাড়ুলি ইউনিয়ন অবস্থিত। দুই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষ দীর্ঘদিন এই নদের উপর নির্মিত একমাত্র বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। গত ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করে এলজিইডি।

পাইকগাছা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, খুলনার জিয়াউল টেডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণের কাজ পায়। তারা সঠিক সময়ে কাজটি শুরুও করে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে লাপাত্তা হয়ে যায়। রাতের আঁধারে ধীরে ধীরে তারা সকল যন্ত্রাংশ সরিয়ে নিয়ে গেছে।

সরজমিন দেখা গেছে, নদের দুই পাশে অসম্পন্ন অবস্থায় ৪টি পিলার নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু বালু আর খোয়া।

কাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও বিধান জানান, অনেক আশা ছিলো ব্রিজটি নির্মাণ হলে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। কিন্তু কাজ ফেলে মাঝপথে ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় লাড়ুলি গ্রামের ইজিবাইক চালক নূর ইসলাম বলেন, “এই যুগেও যদি এত বড় নদী সাঁকো দিয়ে পার হতে হয় তাহলে কত পিছিয়ে রয়েছি আমরা। বরাবরই এ অঞ্চলের মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত।”

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবুল হোসেন জানান, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ব্রিজের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বাড়ি চলে যায়। তাদের পাওনা টাকা দিতে না পারায় তারা আর কাজে যোগ দেয়নি। এছাড়া বিল উঠানো নিয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসে সমস্যা হচ্ছে। সেটার সমাধান হয়ে গেলে আবার কাজ শুরু করতে পারব।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব জানান, শালিখা ব্রিজের কাজ শেষ করার জন্য নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেয়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে অবশেষে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। তিনি যদি কাজ না করেন তাহলে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন